মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ভাষা ও সংস্কৃতি

         মনাকষা ইউনিয়ন পরিষদের মানুষ বাঙালি হিসেবে তাদের স্বভাব সুলভভাবে বাংলা ভাষাতেই কথা বলে। বাংলা ছাড়া অন্য কোন  ভাষা এখানকার মানুষ ব্যবহার করেনা। তবে ইংরেজী ভাষা যেহেতু আর্ন্তজাতিক সেহেতু এই জন্য ইংরেজী ভাষা ব্যবহার করতে হয়।

 

    ১।  গম্ভীরাঃ

 

পশ্চিম বঙ্গের মালদহ জেলায় গম্ভীরা গানের উৎপত্তি। তবে অতীতের গম্ভীরা ও বর্তমানের গম্ভীরা এক নয়। তখন গম্ভীরা ছিল গাজনের উৎসব বিশেষ। প্রধানতঃ শিবকে উপলক্ষ করে মালদহ অঞ্চলে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন উৎসবে পালাগান হিসেবে পরিবেশিত হতো গম্ভীরা। অতীতের গম্ভীরা পরবর্তীতে স্বতন্ত্র রূপ লাভ করে। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের ফলে মালদহ থেকে বহু মুসলমান নবাবগঞ্জ অঞ্চলে এসে বসবাস শুরু করেন। প্রকৃতপক্ষে  তাদের মাধ্যমেই নবাবগঞ্জ ও তার আশেপাশের অঞ্চলে গম্ভীরা গানের প্রচলন ঘটে। এ অঞ্চলে গম্ভীরা প্রবর্তনকারী দের মধ্যে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলো তাদের মধ্যে  তোফাজুল হক, সরদার আলী, মফিজুল হক, বাবর মড়ল, মরহুম লাটু বিশ্বাস, দবির আলী, নফিল আলী , ইয়াসিন আহমেদ প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।

 

২। মেয়েলি গীতঃ

 

 মেয়েলি গীত লোকসংগীতের একটি উল্লেখযোগ্য ধারা। নারী সমাজের আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্না, কামনা বাসনার বিচিত্র উপাদানের আকার মেয়েলি গীতের ভাব সম্পদ। প্রকৃতপক্ষে মেয়েলি গীত মেয়েদের জীবনবেদ স্বরূপ। শিবগঞ্জ অঞ্চল মেয়েলি গীতে সমৃদ্ধ। এখানকার পালা পার্বনে যেমন- মুসলমানী ও বৈবাহিক উৎসবে মেয়েলি গীতের ভূমিকা মূখ্য।

 

৩। নৌকাবাইচঃ

 

    বাঙালির ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা মধ্যে নৌকাবাইচ সবচেয়ে জনপ্রিয়। চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলায় অতি প্রাচীনকাল থেকেই নৌকাবাইচ এর প্রচলন

     রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর বেশ কয়েকটি পয়েন্টে নৌকাবাইচ  অনুষ্ঠিত হতো। বিভিন্ন উৎসবে উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হতো বাইচ। শিবগঞ্জ অঞ্চলের

     বাইচের স্থানগুলো হচ্ছে- মনাকষা ইউনিয়নের চকের ঘাট এলাকায়, গোপালপুর ফেরিঘাট, রাজনগর হাঙ্গামীর নদীতে এছাড়াও শিবগঞ্জ উপজেলার

     পাগলা নদী, ধাইনগর, মির্জাপুর কর্নখালী প্রভৃতি।

 

       ৪। নাট্য সংস্কৃতিঃ

যতদূর জানা যায় এ অঞ্চলে  সর্ব প্রথম নাটক নির্মিত হয়েছিল মইন উদ্দিন আহমেদ মন্টু ডাঃ এর প্রচেষ্টায় মনাকষা গ্রামে/মনাকষা ক্লাবে। তারপরেও নাটক মঞ্চায়ন শুরু হয় নবাবগঞ্জ শহরে। অনেক ক্ষেত্রে পূর্ণ উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে এখানে বিভিন্ন সময়ে নাটক নির্মাণ হয়েছে। তারপর ধীরে ধীরে এখানে ‘নাট্যশালা’ নির্মাণের প্রয়াস চলে। ১৯৭৩ সালে এখানে সর্বপ্রথম ‘এমপ্রেস থিয়েটার’ নামে একটি নাট্যশালা বা ক্লাব গঠিত হয়। স্থানীয় জমিদার এর পূষ্ঠপোষক ছিলেন। তদানীন্তন সৌখীন নাট্যামোদী বাবু গোপীমোহন সাহা, বাবু উমেশচন্দ্র চ্যাটার্জ্জী প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ এই নাট্য-শালা পরিচালনা এবং নাটক মঞ্চস্থ করতেন! পরবর্তীতে মনাকষা তথা শিবগঞ্জ উপজেলা/জেলায় আরো বিখ্যাত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নাটক মঞ্চ অনুষ্ঠানে অনেক সুন্দর সুন্দর নাটক পরিবেশন করেছেন। তারা পুরো জেলায় জনপ্রিয় নাট্য ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছিলেন।